বর্তমান ক্রিকেটে আউট কত প্রকার এবংআরো কিছু গুতুত্বপূর্ণ লেখা এখন লেখক ডট মি এর ক্রিকেট খেলা ক্যাটাগরিতে দেখতে পাবেন ecricbd: খেলাধুলা
Showing posts with label খেলাধুলা. Show all posts
Showing posts with label খেলাধুলা. Show all posts

Tuesday, June 18, 2019

মাশরাফি বিন মর্তুজা- দ্যা ক্যাপ্টেন ফ্যান্টাসটিক


মাশরাফি বিন মর্তুজা নামের এক তরুণের বাংলাদেশ জাতীয় দলে অভিষেক হয় ২০০১ সালে। তখন তিনিই ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম জেনুইন ফাস্ট বোলার। গতির কারণে তাকে নড়াইল এক্সপ্রেস নামে ডাকা হতো। বারবার ইনজুরিতে পড়া ৩৫ বছর বয়সী মাশরাফি যে গতিতে এখন বল করছেন প্রায় একই গতিতে নতুন দলে আসা কম বয়সী বোলাররাও বল করেন।

মাশরাফি এখনো কিভাবে জাতীয় দলে খেলেন?

এই ধরণের প্রশ্ন সাকিবের মত বিশ্বের সর্বকালের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডারকেও প্রায়ই শুনতে হয়(সাকিব টাকার জন্য খেলে, নিজের জন্য খেলে হ্যান ত্যান)।
মাশরাফির ক্যাপ্টেন্সি বা ইনজুরি থেকে ফিরে আসার গল্প আজকে বলবো না। (ফ্লিনটপের মত খেলোয়াড় একবার ম্যাশের মত ইনজুরিতে পড়েই আর, খেলায় ফেরেননি)
ধরে নেই তিনি অভিজ্ঞ কেউ নন, ক্যাপ্টেন নন- শুধু পারফরম্যান্সের জোরে কি বাংলাদেশ দলে জায়গা পাবেন?
প্রথমে ক্যারিয়ার পরিসংখ্যান দেখি
  • উইকেট: ২১৩ ম্যাচ খেলে নিয়েছেন ২৬৬ উইকেট
  • এভারেজ: ৩২.২৭
  • ইকনমি: ৪.৮৪
  • সেরা বোলিং: ২৬ রান দিয়ে ৬ উইকেট
  • চার উইকেট নিয়েছেন ৭ বার, ৫ উইকেট এক বার
শুধু পরিসংখ্যান দেখে এই খেলোয়াড়কে কি দলে খেলাবেন, নাকি তার বদলে বেশী ইকনমি, এভারেজের কোন বোলারকে সুযোগ দেবেন
ভারতের সাথে বাংলাদেশের ২০০৪ সালের জয়ে তিনি বড় ভূমিকা রেখেছিলেন, ২০০৭ এর জয়েও। শ্রীলংকার শক্তিশালী দলকে মাশরাফি এবং নাজমুল হোসেন নাকানি-চুবানি খাইয়েছিলেন।
সাঙ্গাকারার উইকেট বা, শেন ওয়াটসনের উইকেট ইনিংসের শুরুতে এনে দেয়ার মত কাজ এই বোলার অতীতে করেছেন। মাহেলা জয়াবর্ধনে তাকে Unsung Hero বলেছিলেন।
২০১৮ সালের নভেম্বরে প্রথম আলোর প্রতিবেদনে পরিসংখ্যান সহ দেখিয়ে দেয়া হয়েছে গত তিন বছরে বাংলাদেশের সেরা বোলার মাশরাফি। মোস্তাফিজ ১ ম্যাচ খারাপ খেললে পরের দিন আপনারা বলবেন- বিয়ে করেই এই অবস্থা। সাইফুদ্দিন খুব খারাপ বোলিং করলে বলবেন একে কেন নেয়া হয়েছে, রুবেলকে নেয়া হলে সে যদি ডেথ অভারে মুরালিধরণের কাছে যেভাবে বেদম মার খেয়েছিলো তেমন খায় তাহলে বলবেন- রুবেল ইজ নট হ্যাপি।
ইমরুলের জন্য কিছুদিন আগে আপনাদের ভালোবাসার অন্ত ছিল না, আগে যখন খেলতো তখন বলতেন ওপেনিং এ খেলার মত আর কেউ কি নাই। এখন-  Liton Das Not Out, কিছুদিন পর আবার কোটায় খেলে
বিশ্বের সেরা বোলাররা এই বিশ্বকাপে কত করে রান দিচ্ছে একটু খোজ নিয়ে দেখুন। ৯ ওভারে রশিদ খান সেঞ্চুরি করেছে, মাশরাফি, মুস্তাফিজ সাইফুদ্দিনরা সেই তুলনায় ভালোই করছে।
ফিল্ডিং এবং ব্যাটিং এও আমাদের ক্যাপ্টেন ভালো ইমপ্যাক্ট তৈরি করতে পারেন। ভারতীয়দের মাশরাফি একসময় ব্যাটিং-বোলিং দিয়ে হারিয়েছে। তাই বোরিয়া, আগারকারের সেই জালা এখন লিখে আর বলে মেটাচ্ছে। মুশফিককে ভারতবিরোধী প্রমাণের চেষ্টাটাও একই কারণে।
ম্যাশ ভালো খেললে যাদের কাটা ঘায়ে নুনের ছেটা লাগছে তারা দূরে থাকেন। যার জন্য বাংলাদেশ দল জিততে পারে এই আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়েছিলো, তাকে ব্যাটিং পিচে ১-২ ম্যাচের খারাপ বোলিং এর কারণে তার শেষ বিশ্বকাপে দয়া করে কাঠগড়ায় দাড় করাবেন না।
খেলা হবে, বাংলাদেশ জিতবে- ভালো খেলোয়াড়দের নতুন রেকর্ডও হবে, কিন্তু বাংলাদেশের দর্শক সাবালক হবে কবে?

Wednesday, June 5, 2019

মুশফিকুর রহিম- যার ওপর সমসময় ভরসা করা যায়


মুশফিকুর রহিম বাংলাদেশ দলে এসেছিলেন খালেদ মাসুদ পাইলটের বিকল্প হিসেবে। ২০০৫ সালে যখন পাইলট বিশ্বের অন্যতম সেরা উইকেটকিপার এবং মাঝারি মাণের ব্যাটসম্যান ছিলেন তখন তিনি নিজেই অবসরে গিয়েছিলেন(সময় ফুরিয়েছে বুঝতে পেরে)।

মুশফিকুর রহিম নিজেকে প্রমাণ করেই দলে আছেন

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলে উইকেট কিপার ব্যাটসম্যান হিসেবে দুইজন সুযোগ পেয়েছিলেন- ধীমান ঘোষ এবং মুশফিকুর রহিম। মুশফিক উইকেট কিপার হিসেবে যতটা না ভালো ছিলেন, তার চেয়ে ভালো ছিলেন ব্যাটসম্যান হিসেবে। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে এমনকি এখনও তাকে বাংলাদেশের সেরা ব্যাটসম্যান বলে অনেক বিশেষজ্ঞ এবং সাধারণ দর্শকেরাও মনে করে। ৪,৫,৬ নম্বর পজিশনে তিনি একজন বিশ্বমাণের ব্যাটসম্যান। ২০১৯ বিশ্বকাপে তিনি চারে খেলছেন এবং অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়ে যাচ্ছেন। সাকিবকে যেমন খারাপ ব্যাটিং বা, বোলিং এর কারণে বাদ দিয়ে বিকল্প খুজে পাওয়া যায় না- মুশফিকুর রহিমেরও তেমন কোন বিকল্প এখনো খুজে পাওয়া যায় নি।

পরিসংখ্যান

ওয়ানডে বিশ্বকাপ চলছে তাই শুধু ওয়ানডে পরিসংখ্যানটাই দেখাবো-
  • মোট রান: ২০৭ ম্যাচ খেলে ১৯৩ ইনিংস ব্যাটিং করে ৫৬৫৫
  • সর্বোচ্চ সংগ্রহ: ১৪৪
  • এভারেজ ৩৫.১২
  • স্ট্রাইক রেট ৭৮.২৫
  • হাফ সেঞ্চুরি- ৩৪ টি, সেঞ্চুরি ৬টি
এই পরিসংখ্যান মুশফিকের মত ব্যাটসম্যানকে পুরোপুরি তুলে ধরে না যিনি ৩২ বার অপরাজিত ছিলেন। দলের অনেক বিপদের মুহুর্তে তিনি ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। ৯০ এ তিনি কখনো কখনো নড়বড়ে, আবার ফিনিশিং এর সময়ে ২-১ বার খেই হারিয়েছেন বটে। একেবারে নির্দ্বিধায় এই ওয়ার্ল্ডক্লাস ব্যাটসম্যানের প্রতি বাংলাদেশের ১৬ কোটি জনগণ এখনো আস্থা রাখে। বিশ্বকাপের ট্রফিটাও মনে হয় তার হাতে মানাবে।

Saturday, June 1, 2019

তামিম ইকবাল খান- বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ভরসার নাম






তামিম ইকবাল এই মুহুর্তে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সেরা ওপেনার। খুব স্বাভাবিকভাবেই বিশ্বকাপে বামহাতি এই ব্যাটসম্যানের সেঞ্চুরি দেখার জন্য বাংলাদেশের কোটি কোটি দর্শক অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে আছে। সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচেও তার খেলা দলের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলবে।

পিতাঃ ইকবাল খান
মাতাঃ নুসরাত ইকবাল

পরিসংখ্যানে তামিম

ইংল্যান্ড এবং ওয়েলসে অনুষ্ঠিত ২০১৯ বিশ্বকাপ শুরুর আগে ওয়ানডে ম্যাচে তামিমের অর্জনগুলিতে চলুন চোখ বুলিয়ে নেয়া যাক-
  • বয়স: ৩০ বছর
  • ব্যাটিং এর ধরণ: বামহাতি
  • জন্ম: চট্টগ্রাম(বাংলাদেশ)
  • যেসব দলে খেলেছেন: এশিয়া একাদশ, বাংলাদেশ জাতীয় দল, নটিংহ্যামশায়ার, চিটাগং কিংস, পুনে ওয়ারিয়র্স ইত্যাদি
  • ১৯৩ ম্যাচের ১৯১ ম্যাচ ব্যাটিং করে তিনি ৬৬৩৬ রান সংগ্রহ করেছেন
  • ব্যাটিং গড়: ৩৬.২৬
  • স্ট্রাইক রেট: ৭৮.১২
  • সর্বোচ্চ সংগ্রহ: ১৫৪
  • সেঞ্চুরি : ১১ টি
  • হাফ সেঞ্চুরি : ৪৬ টি

তামিম ইকবালের স্ট্রাইক রেট খুব বেশী না হলেও তিনি মারকুটে ব্যাটসম্যান হিসেবেই পরিচিত। নিজের দিনে তিনি বিশ্বের যেকোন বোলিং লাইনআপকে গুড়িয়ে দিতে পারেন। জয়সুরিয়া বা, শেহওয়াগের মত তার দলও সবসময় তার মারকুটে ব্যাটিং এর সুফল পেতে চায়।
আমরা বাংলাদেশীরা বিশ্বাস করি: তামিম ভালো খেললে সে আমাদের কলিজা, আর খারাপ খেললে আকরাম খানের ভাতিজা
পাঠকদের প্রশ্নঃ
  • তামিম ইকবালের স্ত্রীর নাম কি?
উত্তরঃ তাঁর স্ত্রীর নাম আয়েশা সিদ্দিকা, ছেলের নাম আরহান ইকবাল খান।
  • বিপিএল এ তামিমের রেকর্ড কি?
উত্তরঃ বিগত মৌসুমে তিনি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস এর হয়ে খেলেছিলেন। ফাইনাল ম্যাচে ৬১ বলে তাঁর ঝড়ো ১৪১ রানের ইনিংসে ভর করে তাঁর দল চ্যাম্পিয়ন হয়।
  • আইপিএলে তামিম কতগুলো ম্যাচ খেলেছে?
উত্তরঃ ২০১২ এবং ২০১৩ সালে পুনে ওয়ারিওর্সে তিনি একজন তালিকাভূক্ত ক্রিকেটার ছিলেন। দুঃখজনকভাবে তাকে একটি ম্যাচেও খেলার সুযোগ দেয়া হয় নি।
শেষ কথাটায় দ্বিমত করার সম্পূর্ণ অধিকার আপনার আছে। আমি মনে করি তামিম ৬০+ রান করলে সাউথ আফ্রিকার সাথে ম্যাচটা বাংলাদেশ সহজেই জিতে যাবে- শুভকামনা বাংলাদেশের জন্য।

Tuesday, May 7, 2019

গাজী টিভিতে লাইভ বাংলাদেশের খেলা দেখুন


গাজী টিভির অফিসিয়াল চ্যানেল থেকে আমরা সরাসরি সবগুলো ম্যাচ লাইভ দেখানোর চেষ্টা করবো।
এখন চলছে বাংলাদেশ বনাম জিম্বাবুয়ে ওয়ানডে সিরিজের খেলা। আমরা জিটিভির সৌজন্যে এই পেজে আপনাদের লাইভ খেলা দেখাচ্ছি-

লাইভ দেখার জন্য নিচের এপগুলোর যেকোন একটি ডাউনলোড করুন-
সাথেই থাকুন, আপডেট পাবেন। আমরা চেষ্টা করি যাতে উপরের ভিডিওতে খেলা দেখা যায়। কখনো কখনো সেটি সম্ভব না হলে নিচের তিনটি এপের যেকোনটি ব্যবহার করে আপনারা দেখতে পারবেন। নতুন খবর হচ্ছে- বাংলাদেশ দলে নতুন হেড কোচ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ডোমিঙ্গো। এখন দেখার বিষয় তার কোচিং এ দল কেমন খেলে। ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপ ছিল বাংলাদেশের জন্য প্রথম, এর আগে বাংলাদেশ কোন বিশ্বকাপ খেলে নি। ২০০৩, ২০০৭, ২০১১, ২০১৫, ২০১৯ ক্রমাগত উন্নতি চোখে পড়েছে।
বর্তমান কোচিং স্টাফ-
  1. প্রধান কোচ- রাসেল ডোমিঙ্গো
  2. ব্যাটিং কোচ- নিল ম্যাকেঞ্জি
  3. ফাস্ট বোলিং কোচ- চার্ল ল্যাঙ্গেভ্যাল্ট
  4. স্পিন বোলিং কোচ- ড্যানিয়েল ভেট্টরি
  5. ফিল্ডিং কোচ- রায়ান কুক
এছাড়া ফিজিও থেরাপিস্ট, দক্ষতা বিশ্লেষক, মনোবিদ, ম্যানেজার ইত্যাদি দলের সাথে রয়েছে।
দলের আলোচিত খেলোয়াড়েরা হচ্ছেন- তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, মাশরাফি বিন মর্তুজা, মোস্তাফিজুর রহমান। এছাড়া অন্যরাও দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
বিশ্বকাপের দলে সুযোগ না পাওয়া ইমরুল কায়েস এবং নতুন হিসেবে সুযোগ পাওয়া আবু জায়েদ চৌধুরী রাহী আলোচনায় ছিলেন।

Friday, April 26, 2019

ক্রিকেট বিশ্বকাপ কে কতবার নিয়েছে? জেনে নিন এখান থেকে


মোট ১১ টি বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে ৫ টি দেশ। দেশগুলো হচ্ছে- অস্ট্রেলিয়া, ভারত, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, শ্রীলংকা, পাকিস্তান। সর্বশেষ বিশ্বকাপ জিতেছে অস্ট্রেলিয়া। ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথম বিশ্বকাপ শুরু হয়েছে ১৯৭৫ সালে।

কারা কতবার জিতেছে?

  1. অস্ট্রেলিয়া- ৫ বার
  2. ভারত- ২ বার
  3. ওয়েস্ট ইন্ডিজ- ২ বার
  4. শ্রীলংকা- ১ বার
  5. পাকিস্তান- ১ বার
সবচেয়ে অভাগা দল ইংল্যান্ড। ৩ বার বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলেও বিশ্বকাপ জিততে পারেনি। দেখা যাক এবার ইংল্যান্ড এবং ওয়েলস বিশ্বকাপে ঘরের মাঠের সুবিধা নিয়ে ইংল্যান্ড কি করতে পারে। আরেকটি অভাগা দলের নাম সাউথ আফ্রিকা- এদের দল সারাবছর ভালো খেলেও বিশ্বকাপের নক আউট পর্বে খেই হারিয়ে ফেলে।
বাংলাদেশ দল এবার সবচেয়ে অভিজ্ঞ এবং যোগ্য দল নিয়ে যাচ্ছে। এটাকে বাংলাদেশের সর্বকালের সেরা দলও বলা চলে। দেখা যাক কি হয়…
বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা অপেক্ষায় আছে বিশ্বকাপের। ইংল্যান্ডের ওভালে দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ইংল্যান্ডের মধ্যকার খেলা দিয়ে শুরু হবে ২০১৯ সালের বিশ্বকাপের আসর। বিশ্বকাপের সময়সূচি এখনই বিভিন্ন ওয়েবসাইটে পাওয়া যাচ্ছে, এখানেও খুব দ্রুত দেখতে পাবেন।

আবু জায়েদ চৌধুরী রাহী- বাংলাদেশ দলে সবচেয়ে বড় চমক


আবু জায়েদ চৌধুরী রাহী এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় চমক। কেউ চিন্তাও করতে পারেনি সে বিশ্বকাপ দলে জায়গা পাবে। নির্বাচকদের দল ঘোষণার আগে সে নিজেও ভেবেছিলো কি না আমার সেটা নিয়ে সন্দেহ আছে। ছেলেটার বয়স ২৫ বছর, জাতীয় দলে এখনো অভিষেকই হয় নি। সৌম্য, ইমরুল, লিটন , মোসাদ্দেক এদের নিয়ে অনেক ধরণের তর্ক- বিতর্কের ঝড় উঠেছে, কিন্তু রাহীকে নিয়ে তেমন আলোচনাই শোনা যাচ্ছে না।

বিশ্বকাপেই কি রাহীর অভিষেক হবে?

এটা সবার যেমন প্রশ্ন, আমারো প্রশ্ন। আমরা যারা অন্তত ২-৩ টা বিশ্বকাপ দেখেছি তারা এটা বুঝি যে অভিজ্ঞ ক্রিকেটার ছাড়া বিশ্বকাপে সাধারণত এই ধরণের চমক জাগানো নতুন খেলোয়াড়রা তেমন কিছু করতে পারে না, আর বিশ্বকাপ তো পরীক্ষার জায়গা না। যদি তার অভিষেক হয় আমি আশা করবো যেন সে সত্যিই চমক দেখায়(পজিটিভ অর্থে)।
পরিসংখ্যান দেখে আসিঃ  প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে তার ইকনমি রেট ৩.৫৩ এবং সেরা বোলিং ফিগার ২৫ রান দিয়ে ৬ উইকেট। বেশ আশা জাগানিয়া। কিন্তু, লিস্ট এ ক্রিকেটে তার পারফরম্যান্স আশা জাগাচ্ছে না- ৫.৪৬ ইকনমি রেট আর, ৪২ রান দিয়ে ৪ উইকেট তার সেরা পারফরম্যান্স। এই ছেলেটি টেস্ট এবং টি টুয়েন্টি খেলেছে- টেস্টে ৭ ইনিংসে ৩৯.৩৬ এভারেজে তার উইকেটসংখ্যা ১১। টি টুয়েন্টির ৩ ইনিংসে ২৬.৫০ এভারেজে উইকেট সংখ্যা ৪।
২০১৯ বিশ্বকাপে বিভিন্ন দলের প্রতিষ্ঠিত ব্যাটসম্যানরা তার বোলিংকে কিভাবে নেবে সেটাই দেখার বিষয়
এর আগে একজন সিলেটি বাংলাদেসের জাতীয় দলে খেলতেন যার কথা আমার মনে আছে- রাজীন সালেহ। রাজীন সালেহ তার ব্যাটিং দিয়ে তার সময়ে বাংলাদেশ দলে উল্লেখ করার মত অবদান রাখতে পেরেছিলেন- তার সেঞ্চুরি ছিলো, স্ট্রাইক রেট, এভারেজ এগুলোও খুব একটা খারাপ ছিলো না- তিনি স্পিন বল করতে পারতেন। এখন দেখার বিষয় নতুন সিলেটি ছেলেটি বাংলাদেশকে কি দিতে পারে?

Tuesday, April 23, 2019

সৌম্য সরকার- একজন সম্ভাবনাময় বাংলাদেশী ক্রিকেটার

সৌম্য সরকার ই গত ১০ বছরে একমাত্র ওপেনার যার স্ট্রাইক রেট তামিম ইকবালের চেয়ে বেশী ছিলো। ইমরুল কায়েস, জুনায়েদ সিদ্দিকি, এনামুল হক, লিটন দাস সহ আরো কয়েকজন ওপেনার হিসেবে খেলেছেন। কিন্তু কেউই দলে স্থায়ী জায়গা করে নিতে পারেননি, ব্যতিক্রম ছিলেন তামিম ইকবাল। আজকে আমরা শুধু সরকার সাহেবকে নিয়ে কিছু বলব, উনিও একই দলের সদস্য।

জন্ম তারিখঃ ২৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৩

বয়সঃ ২৬ বছর

ধর্মঃ হিন্দু

জেলাঃ সাতক্ষীরা

জাতীয়তাঃ বাংলাদেশী

সৌম্য সরকারের সেঞ্চুরিঃ সম্প্রতি নিউজিল্যান্ডের সাথে টেস্ট ম্যাচে সৌম্য একটি সেঞ্চুরি করেছিলেন যা সত্যিই ছিল অনবদ্য। সেই সেঞ্চুরিটি দেখে নিন-

 

বিপিএল এর দলঃ রাজশাহী কিংস

কি করেছেন অতীতে

সবাই এটা জানতে চায়, চাওয়াটাও স্বাভাবিক। চলুন দেখে নেয়া যাক ওয়ানডেতে তার অতীত পারফরম্যান্স কেমন ছিলো। ৪১ টি ওয়ানডে খেলে ৪০ টি তে ব্যাট করার সুযোগ পেয়েছেন। ৩ বার ছিলেন অপরাজিত। ৩৪.৪ এভারেজ এবং ৯৮.৬ স্ট্রাইক রেট। অনেকের কাছেই এটা বিশ্বাসযোগ্য মনে হচ্ছে না, মনে হচ্ছে সে তো প্রায়ই খারাপ খেলে।

কিছু খেলোয়াড় মাত্রা ছাড়া ভালো খেলে প্রত্যাশাটাকে আকাশে তুলে দিয়েছেন। এখন যখন সেটা পূরণ করতে পারছেন না, আমরা তাকে খারাপ খেলোয়াড় বলছি। এরকম আরেকজন হচ্ছেন- মুমিনুল, আশরাফুলও একসময় এই দলে ছিলেন

লিটনকে নিয়ে আমাদের যে শংকা- সে ঘরের বাঘ আর, আন্তর্জাতিক ম্যাচে বিড়াল। এখানে সৌম্য ব্যতিক্রম, আন্তর্জাতিক ম্যাচেই তার পারফরম্যান্স তুলনামূলক ভালো। সাকিবেরও কিন্তু তাই, আর ভালো করার অনেক সময় আছে।

বাংলাদেশ দলের সবচেয়ে বড় আশার জায়গা- এবার সবচেয়ে অভিজ্ঞ দল যাচ্ছে, এর আগে অভিজ্ঞতাহীনতার প্রভাব আমরা বিশ্বকাপে দেখেছি

আরো পড়ুন- তামিম ইকবাল, ইমরুল কায়েস

এই ছেলেটার বয়স মাত্র ২৬, এখনো সুযোগ আছে অনেক ভালো করার- সম্ভাবনাও আছে। আপনারা সমালোচনা বাদ দিয়ে সমর্থন দিন, ভালো খেলবে। বাংলাদেশ দলের পাইপলাইন দুর্বল বলা হতো এতদিন, এখন মনে হয় আগের চেয়ে বেশ কিছুটা সবল। ভালো কিছু আশা আপনাদের মত আমিও করছি…

আমার চোখে বিপিএল ২০১৯ এর সেরা একাদশ

আমার একাদশ নিয়ে কিছু বলার আগে প্রথমেই তামিম ইকবাল এবং রনি তালুকদারকে ধন্যবাদ দিতে চাই বিপিএলের ফাইনালে চাপের মুখে অসাধারণ দুটি ইনিংস খেলার জন্য। তামিমের অপরাজিত ১৪১, আসলেই অতুলনীয়। ২০ ওভারের ক্রিকেটে ১০০ করাটাই অনেক কঠিন, সেখানে ১৪১ অপরাজিত- ভাবা যায়।

বিপিএল ২০১৯ এর সেরা একাদশ

একটি কথা বিবেচনায় রেখে আমি এই একাদশটি তৈরি করেছি। বিষয়টি হচ্ছে, ৭ জন দেশী এবং ৪ জন বিদেশী খেলোয়াড়ের সমন্বয়ে একাদশ গঠন করা হবে। ব্যাটিং এ সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক পাঁচজন হচ্ছে- রাইলি রুশো> তামিম ইকবাম>মুশফিকুর রহিম>নিকোলাস পুরান> লরি ইভান্স। ব্যটিং এভারেজের দিক দিয়ে এবি ডি ভিলিয়ার্স এবং রবি ফ্রাইলিংক সেরা পাঁচে আছে।

তাই ব্যাটসম্যান থাকবে- তামিম ইকবাল, রনি তালুকদার(৬ নম্বর রান সংগ্রাহক), রাইলি রুশো, এবি ডি ভিলিয়ার্স, মুশফিকুর রহিম(উইকেট কিপার)- ৫ জন

বোলিং এ সেরা পাচজন হচ্ছে- সাকিব আল হাসান>তাসকিন আহমেদ>মাশরাফি বিন মর্তুজা>রুবেল হোসেন>মুহাম্মদ সাইফুদ্দিন

তিনজন অলরাউন্ডার নেবো- তারা হবে রবি ফ্রাইলিংক(কম ম্যাচে ভালো পারফরম্যান্স), সাকিব আল হাসান(ম্যান অফ দ্যা টুর্নামেন্ট), সুনীল নারাইন

এবং ৩ জন থাকবে বোলার- তাসকিন আহমেদ, মাশরাফি বিন মর্তুজা(অধিনায়ক- অভিজ্ঞতা এবং দক্ষতা), রুবেল হোসেন

 

যদি তালিকা আকারে সাজাই তাহলে

  1. তামিম ইকবাল
  2. রনি তালুকদার
  3. রাইলি রুশো
  4. এবি ডি ভিলিয়ার্স(বিকল্প উইকেট কিপার)
  5. মুশফিকুর রহিম(উইকেট কিপার)
  6. সুনীল নারাইন
  7. সাকিব আল হাসান
  8. রবি ফ্রাইলিংক
  9. তাসকিন আহমেদ
  10. মাশরাফি বিন মর্তুজা(অধিনায়ক)
  11. রুবেল হোসেন

এই হচ্ছে আমার সেরা একাদশ। আপনার সেরা একাদশে কারা আছে- নিচে কমেন্টে জানিয়ে দিন।

Sunday, April 21, 2019

ইমরুল কায়েস- বাংলাদেশ দলের অন্যতম ওপেনিং ব্যাটসম্যান

বাংলাদেশী ওপেনার ইমরুল কায়েস আসন্ন বিশ্বকাপের ঘোষিত ১৫ সদস্যের দলে জায়গা পান নি। তার মত একজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড়কে কেন নেয়া হয় নি সেটা নিয়ে বিভিন্ন ধরণের আলোচনা, সমালোচনা এবং মস্তিষ্কবিকৃত কিছু মানুষের গালাগালির ফোয়ারা চলছে। আজকে আমরা একটি ছোটখাট বিশ্লেষণের চেষ্টা করবো।

ইমরুল কায়েস ছাড়া বিশ্বকাপের ১৫ সদস্যের দল

মাশরাফি বিন মুর্তজা (অধিনায়ক), সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল খান, লিটন কুমার দাস, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মেহেদী হাসান মিরাজ, মোহাম্মদ মিঠুন, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, মুশফিকুর রহিম, মোস্তাফিজুর রহমান, রুবেল হোসেন, সাব্বির রহমান, আবু জায়েদ চৌধুরী রাহী, সৌম্য সরকার ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত

এখানে ওপেনার আছেন তিনজন তামিম ইকবাল, লিটন দাস এবং সৌম্য সরকার। তামিম অটোম্যাটিক চয়েস, লিটন এবং সৌম্য এই দুই জনের কার বদলে ইমরুলকে নেয়া যেত কিংবা, এই দুজনকে রেখেই তাকে দলে জায়গা দেয়া যেত কি না সেটা নিয়ে একটু বিশ্লেষণ করে দেখি-

পরিসংখ্যান কি বলে?

ইমরুল কায়েসঃ ইমরুলের বয়স- ৩২, ২০০৮ সালে অভিষেক- সেই হিসাবে তিনি ১০ বছর জাতীয় দলে খেলেও নিশ্চিত দলে জায়গা পাবেন এরকম অবস্থান তৈরি করতে পারেননি। ৭৮ ম্যাচ ব্যাটিং করে ৩২ গড়ে ৭১ স্ট্রাইক রেটে ৪ টি সেঞ্চুরি ও ১৬ টি হাফ সেঞ্চুরি করেছেন।

সৌম্য সরকারঃ ২৬ বছর বয়সী এই ওপেনারের অভিষেক ২০১৪ সালে। জাতীয় দলে ৪ বছর মোটামুটি নিয়মিত খেলেও দলে স্থায়ী জায়গা তৈরি করতে পারেননি। ৪০ ম্যাচ ব্যাটিং করে ৩৪ গড়ে ৯৮ স্ট্রাইক রেটে ২ টি সেঞ্চুরি এবং ৭ টি হাফ সেঞ্চুরি করেছেন।  অতিরিক্ত যোগ্যতা- বোলিং করতে পারেন।

লিটন দাসঃ ২৪ বছর বয়সী এই ক্রিকেটারের অভিষেক ২০১৫ সালে। জাতীয় দলে ৩ বছর খেলে এখনো স্থায়ী জায়গা করে নিতে পারেননি। ২৭ ম্যাচ ব্যাটিং করে প্রায় ২০ গড়ে এবং ৮০ স্ট্রাইক রেটে ১ টি সেঞ্চুরি এবং একটি হাফ সেঞ্চুরি করেছেন। অতিরিক্ত যোগ্যতা- উইকেট কিপিং করতে পারেন।

বিশ্লেষণঃ

তিনজনের ভেতর ইমরুল কায়েস সবচেয়ে অভিজ্ঞ খেলোয়াড় যিনি দলে জায়গা স্থায়ী করতে ব্যর্থ- তার বদলে যাদের নেয়া হচ্ছে তাদেরও বেশ কিছু ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। গড়, সেঞ্চুরি, হাফ সেঞ্চুরি এবং স্ট্রাইক রেটের বিচারে সৌম্য অটোমেটিক চয়েস। এখন কথা হচ্ছে- সাদা চোখে লিটনের চেয়ে ইমরুলের পারফরম্যান্স ভালো, নিলে তাকেই দলে নেয়া উচিত। ১০ বছর ধরে ইমরুলের কাছে দল যা চেয়েছে তা তিনি দিতে পারেননি- শুধু সম্ভাবনা দেখিয়েছেন, তার যোগ্যতা নিয়ে কারো সন্দেহ  নেই। লিটনেরও একই অবস্থা, তবে সেটা ৩ বছর ধরে। লিটনের সম্ভাবনা বেশী- কারণ তিনি ঘরোয়া ক্রিকেটে সম্প্রতি অসাধারণ কিছু ইনিংস খেলেছেন যা ইমরুল পারেননি(খুব একটা খারাপও খেলেননি)। বিশ্বকাপের জন্য ঘোষিত দলে উইকেট কিপার শুধু মুশফিকুর রহিম, আরেকজন উইকেট কিপার রাখতে হলে লিটনকে রাখতে হবে।

ইমরুলকে দলে নেয়া হলে সেটি নিয়ে আরো বেশী সমালোচনা হতো- কারণ, সেটি আরো বেশী অযৌক্তিক

প্রসঙ্গ আয়ারল্যান্ড সফর এবং রাহীঃ

আবু জায়েদ চৌধুরি রাহীকে দলে নিয়ে চমক দেখাতে চেয়েছেন নির্বাচকেরা। কিন্তু বিশ্বকাপের মত মঞ্চে আনাড়ি কাউকে দিয়ে ভালো কিছু হয়েছে এমন উদাহরণ কম, আন্তর্জাতিক ম্যাচ এবং বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতা আছে এমন খেলোয়াড়দেরই প্রাধান্য দেয়া উচিত। প্রথম শ্রেণীর ম্যাচে তার ইকনমি, উইকেট, এভারেজ এগুলো ভালো। পেসার একজন কম নেয়ার পরিকল্পনা থাকলে ইমরুলকে সুযোগ দেয়া যেত, কিন্তু ইংল্যান্ডে খেলা হওয়ায় সেটাও রিস্কি। তাই, দলে একটি – দুটি পরিবর্তন আসলেও ইমরুল আসবে না(আয়ারল্যান্ড সফরের দলেও সে নেই)। আপনাদের মত আমিও অপেক্ষায় আছি, দেখা যাক……